1. admin@muktijoddhatv.xyz : admin :
  2. mainadmin@muktijoddhatvonline.com : mainadmin :
মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ০২:০১ অপরাহ্ন

কেউ পাবে কেউ পাবে না, তা হবে না তা হবে না!

স্টাফ রিপোর্টার, মুক্তিযোদ্ধা টেলিভিশন
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৩
  • ৭৭১ Time View

কেউ পাবে কেউ পাবে না, তা হবে না তা হবে না!

মোঃ ওমর ফারুক

সুযোগ-সুবিধা কেউ বারবার পায়, আর কেউ চেয়ে চেয়ে দেখে! আজব সরকারি মাধ্যমিক! সচেতন যে কেউ জানলে অবাক হবেন যে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে ১৯৯১ ব্যাচে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক হয়েও কেউ বর্তমানে জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কেউ কেউ আবার প্রধান শিক্ষক/ শিক্ষিকা পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, কেউ কেউ বছর দু-তিন আগে মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রমার্জন নিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে তাঁরা ই আবার দ্বিতীয় দফায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রমার্জন নিয়ে দ্রুত ই প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হতে যাচ্ছেন! ওই একই ব্যাচের শিক্ষকদের একটি বড় অংশের কেউ কেউ প্রতিদিন সিনিয়র শিক্ষক হিসেবেই অবসরে চলে যাচ্ছেন, কেউ কেউ রয়েছেন যারা সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা হিসেবেই পড়ে রয়েছেন! এই শিক্ষকদের আরেকটি বড় অংশ সহকারী শিক্ষক হিসেবে একই পদে ৩০ থেকে ৩২ বছর চাকুরী করে ইতোমধ্যে অবসরে চলে গিয়েছেন!

এরপর রয়েছেন ২০০৫-৬ ব্যাচ এর শিক্ষকগণ যারা ১৮-১৯ বছর চাকরি করেও কোনো টাইমস্কেল বা সিলেকশন গ্রেড সুবিধা ভোগ করতে পারেননি! অথচ পূর্বের সকল ব্যাচ তিনটি, দুইটি এবং একটি করে টাইম স্কেল/ সিলেকশন গ্রেড সুবিধা পেয়েছেন! অন্যদিকে রয়েছেন ২০১০ ব্যাচের শিক্ষকগণ যাদের একটি ছোট্ট অংশ সিনিয়র শিক্ষক আরেকটি অংশ সহকারী শিক্ষক! বাহ্ কি সুন্দর সামঞ্জস্য (!)

শেষ দিকে রয়েছেন ২০১১ ব্যাচের শিক্ষক সহকর্মীবৃন্দ, যাদের পূর্বের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী ০৮ বছরে সরকারি প্রধান শিক্ষক/ শিক্ষিকা ও সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার কথা এবং নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ০৭ বছরে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতির বিধান থাকলেও ১৩-১৪ বছরেও তাঁরা পাননি কোনো একটি পদোন্নতিও! এমনকি তাঁরা অদ্যাবধি পাননি কোনো আর্থিক সুবিধাও!(টাইম স্কেল/ সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড!) বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ২০১০ ও ২০১১ ব্যাচের মেধাবী ও তরুণ শিক্ষকগণের একটি বড় অংশ পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা ( টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড বঞ্চিত রয়েছেন। যারা ইতোমধ্যে দাবি তুলেছেন: “বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই!, কেউ পাবে কেউ পাবে না, তা হবে না তা হবে না!” তাঁদের দাবী: নিয়োগ বিধি অনুসরণ পূর্বক তাদের প্রাপ্য পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা দেওয়া হোক। বঞ্চিত শিক্ষকগণ বলছেন দ্রুত তাদের বঞ্চনার অবসান না ঘটলে তাদের যৌক্তিক পেশাগত এ দাবী আদায়ে প্রয়োজনে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে তারা বাধ্য হবেন। এমনকি, নিয়োগ বিধির অনুসরণ না হওয়ায় তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে ও জানা গেছে।

অতি সম্প্রতি পুরাতন সরকারি স্কুল গুলোর ৮৭ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক/ শিক্ষিকা ও সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার যে পদোন্নতি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এটা খুবই আশার কথা। তবে তা বাস্তবায়ন হলে সারাদেশের পুরাতন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহে একজনও সহকারী প্রধান শিক্ষক/ শিক্ষিকা বা সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অবশিষ্ট থাকবেন না! অর্থাৎ প্রায় ৭ শতাধিক পদ শূন্য হয়ে যাবে! অন্যদিকে নতুন ভাবে জাতীয়করণকৃত প্রায় সাড়ে সাড়ে তিন শতাধিক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহেও প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের প্রায় সকল পদ ই শূন্য রয়েছে! (অল্প কিছু সংখ্যক বাদে) উল্লেখ্য, এই পদে কর্মরত পদাধিকারীগণ বিদ্যালয়ের একাডেমিক সুপারভিশন এর দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে -এত বড় শূন্যতা নিয়ে সরকারি স্কুলগুলো কি তাদের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালাতে পারবে? এই শূন্যতা পূরণের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে কর্মরত জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক/ শিক্ষিকা ও সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার শূন্য পদে পদোন্নতি প্রদান অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

এদিকে আবার প্রায় দেড় সহস্রাধিক সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রহর গুনছেন! যাদের মধ্যে প্রায় ৬ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শিক্ষকগণ ও রয়েছেন! যথেষ্ট পরিমাণ শূন্য পদ থাকার পরেও ২০১০ (অংশ) ও ২০১১ ব্যাচে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের তাদের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী কোন পদেই ( সিনিয়র শিক্ষক বা সহকারী প্রধান শিক্ষক বা সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা) পদোন্নতি প্রদান করা হচ্ছে না যা নিয়ে এই শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে! শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর হিসেবে পরিচিত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহে একাডেমিক সুপারভিশন বা তদারকি যথাযথভাবে চালাতে সহকারী প্রধান শিক্ষক /শিক্ষিকা ও সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার শূণ্য পদে এবং সিনিয়র শিক্ষকের শূন্য পদ সমূহে পদোন্নতিযোগ্য সহকারী শিক্ষকদেরকে দ্রুত পদোন্নতি প্রদান ছাড়া এই সেক্টরের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে বিদগ্ধ ও সচেতন সুধীমহল মনে করেন। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এই সকল শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

লেখক:
মোঃ ওমর ফারুক
সহকারী শিক্ষক (বাংলা)
সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা।

সাধারণ সম্পাদক,
বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস), খুলনা জেলা কমিটি, খুলনা।
ইমেইল ঠিকানা: omurfaruknghs12@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss