1. admin@muktijoddhatv.xyz : admin :
  2. mainadmin@muktijoddhatvonline.com : mainadmin :
শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন

পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদকে অব্যাহতির সুপারিশ

মোঃ মহিউদ্দিন সুমন, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা টেলিভিশন
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ জুন, ২০২৩
  • ৫০ Time View

পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদকে অব্যাহতির সুপারিশ

 

পটুয়াখালী পৌরসভার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালগুলো ভরাট করে দখল ও পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলে নদীদূষণের অভিযোগে মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে নদী রক্ষা কমিশন। একই সঙ্গে পৌরসভার প্রশাসক নিয়োগের পদক্ষেপ নিতেও অনুরোধ করা হয়েছে।

হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ ও নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করায় চলতি বছরের ১৪ মে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবরে এই সুপারিশ করেন। সেই অনুরোধপত্রের অনু‌লি‌পি বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

পৌরসভার বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, পৌরসভার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ফৌজদারি খাল। ভারী বৃষ্টিতে হাঁটুপানি জমে পৌর ভবনের আশপাশের এলাকায়। সেই জলাবদ্ধতা নিরসনে এই খালের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই খাল রক্ষার দায়িত্ব পৌর মেয়রের। তবে তার হাতে তো রক্ষা পায়ইনি, উল্টো গলা টিপে খাল হত্যা করছেন তিনি। খাল দখল করে নিজস্ব বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন মেয়র, যা ‘টাইটানিক’ নামে পরিচিত।

তারা আরও জানান, সেই খালের উৎসমুখ লাউকাঠী নদীতে। নদীর সেই পানিপ্রবাহ বন্ধ করে মেয়র খেয়াঘাট স্থাপন করেছেন। পাশপাশি পৌরসভার ময়লা ফেলে সেই নদী ভরাট চলছে। এইক সঙ্গে পৌরসভার সুয়ারেজ লাইন নদী ও খালের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে পানি দূষিত করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী পৌর শ্মাশানের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সুতিখালী খাল। সেই খালের জায়গা ভরাট করে পৌরসভার টাকায় পৌরসভা রাস্তা নির্মাণ করেন মেয়র। এই খাল যখন ভরাট প্রক্রিয়া চলছিল, তখন গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখতে আসেন নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী। স্থানীয় এক বাসিন্দা বৃদ্ধ মাকসুদুর রহমান তালুকদার খাল ভরাটের প্রতিবাদ করে মেয়র মহিউদ্দিনের উপস্থিতিতে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে খাল দখলের বর্ণনা দেন।

জানা গেছে, নদী কমিশনের কাছে এই বক্তব্য দেওয়ার পর বৃদ্ধ মাকসুদুর রহমানের মরদেহ পাওয়া যায় শ্মাশানের ভেতরে।

এ ঘটনায় ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর নিহতের পরিবার বাদী হয়ে পটুয়াখালী আদালতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়। আদালতের নির্দেশে বৃদ্ধর মরদেহ উত্তোলন করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য ভিসেরা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আদলতের নির্দেশে বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।

নদী রক্ষা কমিশন জানায়, গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর তিন দিনের সফরে পটুয়াখালী আসেন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী। প্রথম দিন তিনি পৌর শহরের লাউকাঠি, লোহালিয়া ও বহালগাছিয়া নদী পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি দেখতে পান, পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন ফৌজদারি খালের জায়গা দখল করে নিজস্ব বাসভবন নির্মাণ করেছেন।

গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে পৌরসভার মেয়রের অংশগ্রহণে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কমিশনের চেয়ারম্যান নদী খাল রক্ষায় পৌরসভা মেয়রকে মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেন। স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিত মেয়র আশ্বাস দেন যে ফৌজদারি খালের জায়গা অবৈধভাবে তার নির্মিত নিজস্ব ভবনের অপসারণসহ কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক সব সমস্যা সমাধান করবেন। পরে নদী কমিশন মেয়রকে লিখিত চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করে।

এ নিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাতকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সদস্যরা গত বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত পটুয়াখালীতে সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তারা সরেজমিনে এসে দেখতে পান, পৌরসভা কর্তৃক কমিশনের কোনও সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। উল্টো সুতিখালী খালের ওপর রাস্তা নির্মাণ করে খালটিকে অস্তিত্বহীন করে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি পৌরসভার ময়লা-আবর্জনায় দূষণের পরিমান আরও বেড়েছে।

পরে অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত মেয়রকে কমিশনের সব সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল সব সমস্যা সমাধান করে ১৫ দিনের মধ্যে কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু আজও কোনও প্রতিবেদন কমিশনে পাঠাননি মেয়র।

পৌরসভার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পৌর শহরের অধিকাংশ খালগুলো দখল হয়ে গেছে। মহিউদ্দিন আহমেদ মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরে ওই সব খালে আরও সরু করে ড্রেন নির্মাণ করেছেন। বর্ষা মৌসুমে চরম জলাবদ্ধতা দেখা দেবে পৌর শহরের অধিকাংশ জায়গায়। ফৌজদারি খাল দখল করে নিজস্ব বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। এতে বর্ষা মৌসুমে আদালত পাড়া ও লতিফ স্কুল এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। খাল দখলের প্রতিবাদ করায় মাকসুদুর রহমান তালুকদার নামের একজনকে হত্যা করা হয়েছে। এতে মেয়রের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করছে না।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, হাইকোর্ট বিভাগের এক আদেশের মাধ্যমে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে দেশের সব নদীর আইনি অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করেছে। পৌর মেয়র কর্তৃক জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশকে অবজ্ঞা হাইকোর্টেও রায়ের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং স্থানীয় সরকার আইনের বিরোধী। পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করেছেন মেয়র। এ জন্য আমাদের পর্যবেক্ষণে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হওয়ায় মেয়রকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দিতে সচিবকে অনুরোধ জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে কথা বলতে পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি ধরেননি।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দিয়েছেন। সেখানে পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিনকে অপসারণের সুপারিশ করেছেন। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগ আমাদের কোনও নির্দেশনা দেননি। সচিব মহোদয় নির্দেশনা দিলে তা দ্রুত বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss